জলাঞ্জলি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
হে পিতৃহীন ও মাতাহীন / কোন একজনকে
হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসমান জীবন
পথে যুদ্ধরত সিপাহী তোমাকেই বলছি ।
জীবন পথে আবেগ নয় বাস্তবতার নিরিখে
চলা প্রয়োজন। জলাঞ্জলি শব্দটা ব্যবহার
হয় অপচয় , অপব্যয় ও সম্পুর্ণ বরবাদ অর্থে ।
এশব্দের বাহিরের অর্থ ও প্রয়োগ বেশ
সুন্দর ও ভালো , কিন্তু ভিতরের রুপটা
কোন মুসলমানের নিকট গ্রহণযোগ্য হতে
পারে না ।
এ শব্দের ভাবগত সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা
আপত্তিকর ।
জলাঞ্জলি হচ্ছে হিন্দুদের ধর্মীয়
অনুষ্টান । শব্দটি সংস্কৃত ভাষার বৈদিক
সংস্কৃতির একটি শব্দ। এর সন্ধি বিচ্ছেদ
করলে :জল +অঞ্জলি =জলাঞ্জলি অর্থ
আজলা পূর্ণ পানি।হিন্দুরা শবদাহের পর
প্রতাত্মার উদ্দেশ্যে আজলা পূর্ণ পানি
ছিটিয়ে দেয়।এই ধর্মীয় অনুষ্টানের নাম
'জলাঞ্জলি'বা বিসর্জন । হিন্দু ধর্মে
জলাঞ্জলির মত আর ও অনুষ্টান আছে।
যেমন ঘৃতাঞ্জলি (ঘৃত+অঞ্জলি),পু
ষ্পাঞ্জলি ,তিলাঞ্জলি ,কৃতাঞ্জলি,ও
শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রভৃতি অনুষ্টান । এসব
পারিভাষিক শব্দ হিন্দুদের পূজা মন্দির ও
দেবদেবীর পূজার ক্ষেত্রে প্রয়োগ হয় ।
পরিতাপের বিষয় হচ্ছে ,অনেক মুসলমান
এসব শব্দের ব্যবহারে ঈমান আকিদা গত
কোন বাধা আছে বলে মনে করে না ।
মৃতজনের লাশের পাশে বা কবরে বা
অথবা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য
পুষ্পস্তবকের উপর কাগজে বা ব্যানারে
লেখে দেওয়া হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি এর নিছে
ব্যানার বা পুষ্প অর্পনকারী ব্যক্তি
,সংগঠন বা সংস্থার নাম দেওয়া হয় । এই
রেওয়াজ ইসলাম সমর্তন করে না ।কারণ এর
দ্বার অন্য ধর্মের অনুসরণ ও অনুকরণ হয়।
এছাড়া অপব্যয় হওয়ার কারণে ও তা
নিষিদ্ধ।
কোরআন মাজিদে অপব্যয়ের ক্ষেত্রে
দুটি শব্দ ব্যবহার হয়েছে
1- ﺍِﺳْﺮﺍﻑ
-2 ﺗَﺒْﺰِﻳْﺮ
ইসরাফ বলা যেথায় একশত টাকা খরছ করা
প্রয়োজন সেখানে একশত টাকার চেয়ে
অধিক খরছ করা ,আর তাবযীর হল যেখানে
একশত টাকা ব্যয় করার দরকার নয়
সেখানে একশত টাকা ব্যয় করা ।আল্লাহ
পাক উভয়টা নিষেধ করেছেন।দেখা
যাচ্ছে তাবযীর ইসরাফের চেয়ে ও বড়
ধরণের গোনাহ।
কারণ মুসলিম হিসাবে আমাদের বিশ্বাস
মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী জান্নাত বা
জাহান্নামে যাবে ।লোকটি যদি
জান্নাতি হয় ফুল দিয়ে তার সাথে মস্করা
করা ছাড়া আর কিছু নয় ,কারণ দুনিয়াবী
ফুলের চেয়ে অসংখ্য অগণিত সুঘ্রাণযুক্ত
ফুলের সুঘ্রাণ তারা নিচ্ছেন ।কোটি
টাকার লোককে যদি একশত টাকার একটি
জামা কিনে দেওয়া হলে যেমন এটা
তামাশা হয় এমনিভাবে জান্নাতি
লোকের উদ্দেশ্যে এ ধরণের কাজ
তাদেরকে ছোটকরণ ও তুচ্ছ তাচ্ছিলেরই
নামান্তর ।আর যদি লোকটি জাহান্নামী
হয় তাহলে এ ফুল দেওয়া বা ব্যানার
চাপানো সামান্যতম আযাব কম হবে না
বরং শাস্তি আরও বেড়ে যাবে ।
পুষ্পাঞ্জলি বা ব্যানার দ্বারা শুধু ফুল
বিক্রেতা , ফুলের বাগানের মালিকও
মুদ্রণকারীদের আর্থিক লাভ হয়। তাছাড়া
মৃত্যুবার্ষিকি বা জম্ম বার্ষিকি পালন
করা ইসলাম সমর্থন করে না ।তাই বলি
আবেগ নয় ইসলামের আলোকে আপনার
প্রিয় জনের নিকট সওয়াব পৌছানোর
ব্যবস্থা করুন ।
মৃত জনের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও মায়া
মমতা প্রদর্শনের সর্বোত্তম ব্যবস্থা
ইসলাম
ধর্মে আছে।সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মৃত
জনের ও মঙ্গল হয় ।এমনিভাবে সমাজ
থেকে চলমান বেদআত মূলোৎপাটনে
অনেকটা সহায়ক হবে ।আর এ উদ্যোগ গ্রহণ
করার কারণে আপনি অতিরিক্ত সওয়াবের
অধিকারী হবেন । দোয়া করি
আল্লাহপাক যেন সব মুসলিমকে বিধর্মী
কালচার ছাড়ার ও নিজ সংস্কৃতি ধরার
তওফিক দান করেন।
ﺁﻣﻴﻦ
শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
শ্রদ্ধাঞ্জলি
খলিফা উমর ফারুক (র.)
"আমাদের দেশে সেই লোক হবে কবে
কথায় না ভাল হয়ে কাজে ভাল হবে''
#উমর ফারুক #রাযিয়াল্লাহু #আনহু
তার পিতার নাম খাত্তাব ও মায়ের নাম
হানতামাহ।
তিনি মক্কা নগরীতে 582/83 খৃষ্টাব্দে
জম্ম গ্রহণ করেন ।তিনি মক্কা নগরীর
একজন উচ্চ শিক্ষিত,সুবক্তা,কবি ,সাহসী
যুদ্ধা,ও কুস্তিগীর ছিলেন।
ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ইসলামের ঘুরতর
দুশমন ছিলেন।
নিজ বোন ফাতিমার তিলাওয়াত শুনে
রাসুলুল্লাহ (দঃ)এর কাছে গিয়ে ইসলাম
গ্রহণ করেন।
তার উদ্যোগেই ইসলামের দাওয়াত
প্রকাশ্যে শুরু হয় ।সর্ব প্রথম কাবা ঘরে
জামাতের সাথে নামাজ আদায় করা হয় ও
তার প্রস্তাবেই আযানের ব্যবস্থা চালু
হয়। রাসূল দ. এর সাথে সব যুদ্ধেই অংশ
গ্রহণ করেন।
উমর যেমন ছিল কঠোর তেমনি ছিলেন
কোমল।তিনি খলিফা হওয়ার পর লোকজন
ঘর থেকে ভয়ে বের হতো না,এ খবর শুনার
পর তিনি ঘোষণা দিলেন রাসূল দ. ও আবু
বকর নম্র নীতি বলতেন তাই আমি কঠোরটা
বলতাম যাতে কঠোর ও নিম্ন নীতি মিলে
মধ্যম পন্থার নীতি হয়,আজ যেহেতু উনারা
নেই
তাই আমি আজ থেকে কোমল উমর ।
দেশের মানুষের অবস্থা জানার জন্য
পোষাক পরিচ্ছেদ পরিবর্তন করে একাকি
ঘুরে বেড়াতেন।একবার শুনলেন এক বাচ্ছা
কাদছে অথচ তার মা বাচ্ছাকে দুধ পান
করাচ্ছে ,অপর একজন বাচ্ছার মাকে
জিজ্ঞেস করলো বাচ্ছাকে কেন দুধ পান
করাচ্ছো না ?
সে মহিলা জবাব দিল খলিফা উমর
দুগ্ধপৌষ্য শিশুর কোন ভাতা দেন না ,তাই
এমন করছি যাতে বাচ্ছা দুধ ছাড়ার
অভ্যস্থ হয়ে যায়।খলিফা উমর ইহা শুনে
কেদে কেদে মদিনায় ফিরে আসলেন আর
বলতে লাগলেন না জানি কত শিশু এ
ভাবে কষ্ট করছে ?পরদিন ঘোষণা দিলেন
প্রত্যাকের জন্য ভাতা দেওয়া হবে চাই
সে দুধ ছাড়ুক বা না ছাড়ুক , ছোট হউক বা
বড়।
তিনি মুমিনদের প্রতি রহমশীল
,কাফেরদের বেলায় কঠোর।
হযরত উমর রা. সর্ব প্রথম পুলিশ ওসামরিক
বাহিনী গঠন ,আদম শুমারী,রাজস্ব ব্যবস্থা
কায়েম, অসহায় ও অক্ষমদের ভাতা প্রদান
,জিযিয়া ও খেরাজ ব্যবস্থা
প্রবর্তন,হিজরী সন গণনা,কৃষিক্ষেত্রে
সেচ ব্যবস্থা চালু করেন। শাষন বিচার
ব্যবস্থা নিরপেক্ষও নিখুত ছিল ।
আইনের চোখে উচু-নিচু,ধনী-গরীব,আপন-পর
কোন ভেদাভেদ ছিল না।নিজ ছেলে আবু
শাহমাকে কঠোর শাস্তি দিতে কুন্ঠাবোধ
করেননি।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহাবিদের
সাথে পরামর্শ করতেন।
সাম্যের বিরল প্রতিক ছিলেন। একবার
সিরিয়া সফরকালে নিজের গোলামের
সাথে যে সাম্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
প্রায় অর্ধ পৃথিবীর ক্ষমতাধর হওয়া
সত্বেও তার মাঝে ছিল না সামান্তম
অহংকার।সাদা-সিধা জীবন যাপন
করতেন।গাছের ছায়ায় মাটির বিছানায়
কেটেছে তার জীবন।
তিনি 10বছর 2 মাস শাষনকার্য পরিচালনা
করেন।তিনি 645খৃষ্টাব্দে শাহাদত বরণ
করেন । ﺍﻧﺎ ﻟﻠﻪ ﻭﺍﻧﺎ ﺍﻟﻴﻪ ﺭﺍﺟﻌﻮﻥ
ইন্তিকালের সময় তার বয়স হয়েছিল 63
বছর ।
প্রায় আলেমরা সালাফে
সালেহীনদেরকে নিয়ে গর্ব করে বলেন
বা ব্যানারে লেখা থাকে
ﺍﻟﻯٔﻚ ﺍﺑﺎﻯٔﻲ ﻓﺠﺌﻨﻲ ﺑﻤﺜﻠﻬﻢ ....
তাই আমাদের পূর্বসূরী ও জান্নাতের
সুসংবাদ প্রাপ্ত একজন সাহাবীর
জীবনের কিছু অংশ লেখলাম ,কারণ দাবী
আর আমাদের আমলে রাত দিন তফাৎ
আছে। শুধু দাবী এবং কথায় ভাল হইলেই হয়
না বাস্তবে কাজে ভাল থাকতে হয়।
রোহিঙ্গা নির্যাতনে কী মানবতা লঙ্ঘন হয় না?
এশিয়ার একটি দেশ মিয়ানমারে
হাজার হাজার মুসলমান নিহত হচ্ছে এবং
তাদের হত্যা করা হচ্ছে অজ্ঞতা ও
বিদ্বেষের কারণে। এ ঘটনায় কোনো
কোনো শক্তির রাজনৈতিক হাত থাকার
কথা না উল্লেখ করেও যদি ধরে নিই যে,
যেমনটি দাবি করা হচ্ছে, ধর্মীয় ও
সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কারণেই এই
গণহত্যা ঘটছে, তা সত্ত্বেও
মানবাধিকারের ভুয়া সমর্থকরা মুখ
খুলছেন না। অথচ এদেরই অন্তর নাকি জীব-
জন্তু ও পশুর জন্য কাঁদে! অন্যদিকে যেসব
দেশ তাদের অধীনতা থেকে মুক্ত বা
স্বাধীনচেতা এবং তাদের ধামাধরা নয়,
সেসব দেশে ক্ষুদ্রতম অজুহাতও দেখতে
পেলে তারা তা শতগুণ বড় করে তুলে ধরে।
অথচ মিয়ানমারে নিরপরাধ, নিরস্ত্র এবং
অসহায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের হত্যার
ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ হয়ে আছে।
পশ্চিমা শক্তিগুলো অবশ্য এ ব্যাপারে
সাফাইও গাইছে! এই হলো তাদের
মানবাধিকারের অবস্থা! তাদের
মানবাধিকার নৈতিকতা, খোদা ও
আধ্যাত্মিকতাবিহীন। পশ্চিমাদের
নৈতিকতা এবং মানবাধিকারের দাবি
যে মিথ্যা বড়াই ছাড়া আর কিছুই নয়, তা
স্পষ্ট হয়ে গেছে মিয়ানমারের হাজার
হাজার মুসলমানকে হত্যার বিষয়ে তাদের
নীরবতার মধ্য দিয়ে।
ওরা বলছে,
রোহিঙ্গা মুসলমানরা নাকি
মিয়ানমারের নাগরিক নয়। ধরে নিলাম
তা ঠিক, তাই বলে কি তাদেরকে অবশ্যই
নিহত হতে হবে? অবশ্য, তাদের এ দাবি
মিথ্যা কারণ, শত শত বছর ধরে তারা
সেখানে বসবাস করে আসছে। এ ব্যাপারে
আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। পশ্চিমারা
বিশেষ করে ইংরেজরা তাদের
ঔপনিবেশিক শাসনামলে মিয়ানমারে
এবং তার আশেপাশের দেশগুলোর
জনগণের ওপর ঠিক এমন অবস্থায়ই চাপিয়ে
দিয়েছিল। তারা সেখানকার জনগণের
প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলেছিল। ইংরেজরা
যেখানেই পা রেখেছে সেখানেই দুর্নীতি
বা আরাজকতার রাজত্ব কায়েম করেছে
এবং বংশ নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। কুরআন
যেমনটি বলে-এসব কাজ ছাড়া অন্য কিছু
তারা করেনি।
মায়ানমার ও বাংলাদেশের কিছু তথ্য
মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু
তথ্য।
বাংলাদেশের অফিসিয়াল নাম :
people's republic of Bangladesh
মায়ানমারের অফিসিয়াল নাম republic of
the Union of myanmar ,
(মায়ানমারের) অবস্থান: দক্ষিণ পূর্ব
এশিয়া।
আর বাংলাদেশের অবস্থান: দক্ষিণ
এশিয়া
মায়ানমারের মুদ্রা:ক্যত (MMK)
বাংলাদেশের মুদ্রা: ৳ (BDT)
মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় ভাষা: বার্মিজ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় ভাষা:
বাংলা
মিয়ানমারের জন সংখ্যা:
60,077,689
(২৬১,৯৭০ বর্গমাইল)
(জুলাই
2015 )
বাংলাদেশের জনসংখ্যা:১৬৩,১৮৭,০০০
[2017,অনুমানিক]
মিয়ানমারের মোট আয়তন : ৬৭৮,৫০০
বর্গকিলোমিটার
(২৬১,৯৭০ বর্গমাইল) এলাকাজুড়ে
বিস্তৃত।
বাংলাদেশের আয়তন সমুদ্র সীমা সহ :
২,৪৬,০৩৭ বর্গ কিমি.
মিয়ানমারের ফোন কোড: +৯৫
বাংলাদেশের ফোন কোড: ০৮৮
চতুঃসীমা:
বাংলাদেশের চতুঃসীমা:
বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর,
আর পূর্ব সীমান্ত জুড়ে রয়েছে ভারত ।
পশ্চিমে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
রাজ্য , উত্তরে মেঘালয় ও আসাম
রাজ্য এবং পূর্বে রয়েছে
আসাম, ত্রিপুরা , মিজোরাম ও মিয়ানমার
(বার্মা)
মায়ানমারের পশ্চিমে বাংলাদেশের
চট্টগ্রাম বিভাগ এবং ভারতের
মিজোরাম , উত্তর-পশ্চিমে ভারতের
আসাম , নাগাল্যান্ড ও মণিপুর অবস্থিত।
মায়ানমারের সীমানার উত্তর-পূর্বাংশের
২,১৮৫ কিলোমিটার জুড়ে আছে তিব্বত
এবং চীনের ইউনান প্রদেশ । দক্ষিণ-পূর্বে
রয়েছে লাওস ও থাইল্যান্ড । দক্ষিণ-
পশ্চিম এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও
আন্দামান সাগরের সাথে মায়ানমারের
১,৯৩০ কিলোমিটার উপকূল রেখা রয়েছে।
মঙ্গলবার, ২ মে, ২০১৭
মানবতা নষ্টকারী কয়েকটি দোষ
আল্লাহ পাক মানব জাতিকে নানান গুনের অধিকারী হিসাবে তৈরী করেছন ।সৃষ্টিগতভাবে যে স্বভাব গুলা মানুষের মাঝে বিদ্যমান সেই স্বভাবের থেকে কতেক ভাল কতেক মন্দ অর্থাৎ ভাল মন্দ উপযোগী করে মানব সৃষ্টি করা হয়েছে যেমন ইরশাদ ফরমান فألهمها فجورها وتقواها আল্লাহ পাক মানবের অন্তরে ভাল মন্দ ঢেলে দিয়েছেন ।মানব যখন ত্রুটিযুক্ত স্বভাব থেকে উৎকর্ষ সাধন করবে ও আত্মশুদ্ধি শক্তিতে শক্তিমান হবে ,দুনিয়া মোহ ও ফেৎনা ফাসাদ থেকে বেচে থাকবে তাকেই কোরআনের ভাষায় মানুষ বলে।নচেৎ তাকে মানুষ জ্ঞান করা যায় না যেমন আল্লাহ পাক বলেন اولائك كالانعام بل هم اضل যারা স্বভাব উৎকর্ষ সাধন করতে পারেনি
তারা চতুষ্পদ জানওয়ারের মত বরং এর চেয়েও নিকৃষ্ট।তাই বুঝা যাচ্ছে গুণমত ব্যক্তিই মানুষ বলার উপযুক্ত।কথায় আছে وبضدها تتبين الأشياء বিপরিত বস্তু দ্বারা জিনিষ সমূহ বুঝতে সহজ হয়।তাই আমার অনুসন্ধানে যে আয়াত গুলির মধ্যে মানুষের দোষের আলোচনা পেয়েছি সেগুলা লিপিবদ্ধ করেছি যাতে এ দোষ ত্রুটি থেকে বেচে থাকা যায়।নিম্নে সে আয়াতগুলি লিপিবদ্ধ করা হল।
١-إنا اﻹنسان لكفور {الحج}
٢-إنا اﻹنسان لظلوم كفار
٣-إنه كان ظلوما جهولا{اﻷحزاب}
٤-وكان الشيطان للإنسان خذولا{المؤمنون}
٥-كان اﻹنسان أكثر شيئ جدلا
٦-أولم ير اﻹنسان أنا خلقناه من نطفة فأذا هو خصيم مبين{يس}
٧-إذا مس اﻹنسان ضر دعا ربه منيبا إليه{الزمر}
٨-ﻻ يسئم اﻹنسان من دعاء الخير{الإسراء}
٩-وإذا أنعمنا على اﻹنسان أعرض نأ بجانبه{فصلت}
١٠-إن أذقنا منا رحمة فرح بها{الشورى}
١١-أم للإنسان ما تمنى{النجم}
١٢-وإن ليس للإنسان إﻻ ما سعى{النجم}
١٣-إن اﻹنسان خلق هلوعا{المعارج}
١٤-بل يريد اﻹنسان ليفجر أمامه{القيامة}
١٥-كلا إن اﻹنسان ليطغى{علق}
١٦-إن اﻹنسان لربه لكنود{والعاديات}
١٧-خلق اﻹنسان ضعيفا{النساء}
١٨-وكان اﻹنسان عجوﻻ
١٩-خلق اﻹنسان من عجل
٢٠-وكان اﻹنسان قتورا
إنه ليؤس كفور {هود}
انه لفرح فخور{هود}
لقد خلقنااﻹنسان في كبد{البلد}
لقد خلقنا اﻹنسان في أحسن تقويم{التين}
আল্লাহ পাক বলেন সৃষ্টি গত ভাবে মানুষ অস্বীকার,অত্যচার,অজ্ঞতা,প্রলোভনে প্রভাবিত হওয়া,বাক-বিতন্ডতা অর্থাৎ ঝগরাটে প্রিয়,মছিবতের সময় বিনয়ী,সর্বদা নিজ মঙ্গল কামণা ,সুবিধার সময় বিমুখতা ও আনন্দিত হওয়া,আশা ,চেষ্টার ফলাফল অবশ্যই পাওয়া,অস্তির,সীমালঙ্গনকারী,সবার সামনে পাপাচারী করার বাসনা,অকৃতজ্ঞ,দুর্বল,তাড়াহুড়া প্রিয়,কৃপন,নৈরাশ,অহংকারী,সহনশীল হিসাবে সৃষ্টি করেছেন।এছাড়া ও তাকে সুন্দর ,সুসম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।
সোমবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৭
একথায় মহাবল
শুক্রবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৭
আগামী শুক্রবারে নব বর্ষ 2024 বাংলা,উৎসব পালন কী ঠিক?
আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপর বাংলাদেশে
লাগবে সুরের ও রঙের মাতন। চারদিকে দেখা
যাবে লাল, নীল, হলুদ রঙ। মাথার উপর উঠে নাচবে
নানা রঙের পশু-পাখি। গ্লানি ও জ্বরা মুছে
যাওয়ার কামনায় হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।
গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি পরা তরুণ আর বাসন্তি
রঙের শাড়ি পরা তরুণীদের পদচারণায় মুখরিত হবে
জনপথ। বাতাস ভরে উঠবে ইলিশের গন্ধে। মেলায়,
মাঠে ময়দানে চলবে পানতা পানের হিড়িক। বছর
ঘুরে এলো বৈশাখ; এসো হে বৈশাখ এসো এসো।
বৈশাখ এলেই বারবার উঠে আসে একটা শব্দ-
‘হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য’। এই হাজার
বছরের ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে আজ
অজপাড়াগায়েও বৈশাখী উৎসব পালন করা হয়;
বৈশাখী মেলা বসে সর্বত্র। আগে পুরাতন
কাপড়েই বৈশাখ পালন করা যেত এখন নতুন
বৈশাখী জামা লাগে। পহেলা বৈশাখ যেন
বাঙালিদের ঈদের দিন। তবে এই ‘হাজার বছরের
বাঙালি ঐতিহ্যে’র বয়স কিন্তু মোটেও হাজার
বছর না। খুব বেশি দিন আগে না, বৈশাখী উৎসব
সীমাবদ্ধ ছিলো রমনা বটমূলে, তারপর তার প্রসিদ্ধতার জন্য নানা গার্মেন্টসের বৈশাখ নামীয় কাপড় বিক্রি ,তারপর দেশের
নামকরা কিছু স্থানে এখন সারাদেশে। কৃষি
নির্ভর বাংলাদেশে বৈশাখ কখনই উৎসবের মাস
ছিলো না, বৈশাখ ছিলো কর্মব্যস্ততার মাস।
উৎসব ধর্ম পালনের অংশ : উৎসব সাধারণত একটি
জাতির ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সম্পৃক্ত হয়।
উৎসবের উপলক্ষ্যগুলো খোঁজ করলে পাওয়া যাবে
তাতে রয়েছে উৎসব পালনকারী জাতির ধমনীতে
প্রবাহিত ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় অনুভূতি, ধর্মীয়
সংস্কার ও ধর্মীয় ধ্যান-ধারণার ছোঁয়া।
উদাহরণস্বরূপ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড় দিন
তাদের বিশ্বাসমতে স্রষ্টার পুত্রের জন্মদিন।
মধ্যযুগে ইউরোপীয় দেশগুলোতে জুলিয়ান
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালিত হতো ২৫শে
মার্চ এবং তা পালনের উপলক্ষ্য ছিল, ঐ দিন
খ্রিস্টীয় মতবাদ অনুযায়ী মাতা মেরীর নিকট এ
মর্মে ঐশী বাণী প্রেরিত হয় যে, মেরী ঈশ্বরের
পুত্র জন্ম দিতে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে ১৫৮২ সালে
গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারের সূচনার পর রোমক
ক্যাথলিক দেশগুলো পয়লা জানুয়ারি নববর্ষ
উদযাপন করা আরম্ভ করে। ঐতিহ্যগতভাবে এ
দিনটি একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই পালিত হত।
ইহুদীদের নববর্ষ ‘রোশ হাশানাহ’ ওল্ড
টেস্টামেন্টে বর্ণিত ইহুদীদের ধর্মীয় পবিত্র দিন
‘সাবাত’ হিসেবে পালিত হয়।
এমনিভাবে প্রায় সকল জাতির উৎসবের মাঝেই
ধর্মীয় চিন্তা-ধারা খুঁজে পাওয়া যাবে। আর
এজন্যই ইসলামের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
পরিষ্কারভাবে মুসলিমদের উৎসবকে নির্ধারণ
করেছেন। ফলে অন্যদের উৎসব মুসলিমদের
সংস্কৃতিতে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই।কারণ রাসুলুল্লাহ (দঃ) এরশাদ করেন من تشبه بقوم فهو منهم
যে বিজাতিয় কালচার রিতি নীতি অনু্সরণ সে তাদের দলভুক্ত ,এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেন: “لكل قوم عيد و هذا عيدناপ্রত্যেক জাতির নিজস্ব উৎসব রয়েছে, আর
এটা আমাদের ঈদ।” [বুখারী: ৯৫২; মুসলিম: ৮৯২]
বিখ্যাত ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)
এ সম্পর্কে বলেন: “উৎসব-অনুষ্ঠান ধর্মীয় বিধান,
সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ধর্মীয় আচার-
অনুষ্ঠানেরই একটি অংশ, যা সম্পর্কে
আল্লাহপাক কুরআনে বলেন: ‘لكل جعلنا منكم شرعة و منهاجاতোমাদের
প্রত্যেকের জন্যই আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান
এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’ (সূরা আল-
মায়িদাহ, ৫:৪৮)অপর এক আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন لكل امة جعلنا منسكا هم ناكسوه ‘প্রতিটি জাতির জন্য আমি
অনুষ্ঠান [সময় ও স্থান] নির্দিষ্ট করে দিয়েছি যা
তাদেরকে পালন করতে হয়।’ (সূরা আল-হাজ্জ্ব,
২২:৬৭)
অতএব, অমুসলিমদের উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া
এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেই।
তাদের উৎসব-অনুষ্ঠানের সাথে একমত পোষণ করার
অর্থ কুফরের সাথে একমত পোষণ করা। আর এসবের
একাংশের সাথে একমত পোষণ করার অর্থ কুফরের
শাখা বিশেষের সাথে একমত হওয়া। উৎসব-
অনুষ্ঠানাদি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
উৎসব দ্বারা ধর্মগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত
করা যায়। নিঃসন্দেহে তাদের সাথে এসব
অনুষ্ঠান পালনে যোগ দেয়া একজন মুসলমানকে
কুফরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আর
বাহ্যিকভাবে এগুলোতে অংশ নেয়া নিঃসন্দেহে
পাপ।
উৎসব অনুষ্ঠান যে প্রতিটি জাতির স্বকীয়
বৈশিষ্ট্য, এর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিষ্কার ইঙ্গিত
করেছেন। তিনি বলেছেন: ‘প্রত্যেক জাতির
নিজস্ব উৎসব রয়েছে। আর এটা আমাদের ঈদ।’
এছাড়া আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন [মদীনায়] আসলেন, তখন
তাদের দুটো উৎসবের দিন ছিল। তিনি বললেন, ‘এ
দুটো দিনের তাৎপর্য কি?’ তারা বলল,
‘জাহিলিয়াতের যুগে আমরা এ দুটো দিনে উৎসব
করতাম।’ রাসূল্লাল্লাহ (সা.) বললেন, ‘এ
দিনগুলোর পরিবর্তে আল্লাহ তোমাদের উত্তম
কিছু দিন দিয়েছেন: কুরবানীর ঈদ ও রোযার ঈদ ”।
(সূনান আবু দাউদ) এ হাদীস থেকে দেখা যাচ্ছে
যে, ইসলাম আগমনের পর ইসলাম বহির্ভূত সকল
উৎসবকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে এবং
নতুনভাবে উৎসবের জন্য দুটো দিন নির্ধারণ করা
হয়েছে। সেই সাথে অমুসলিমদের অনুসরণে
যাবতীয় উৎসব পালনের পথকে বন্ধ করা হয়েছে।
নববর্ষ উদযাপন সম্পর্কে ইসলামের চেতনা : ইমাম
আবু হানিফা (রহ.)-এর দাদা তার পিতাকে
পারস্যের নওরোযের দিন (নববর্ষের দিন) আলী
(রা.)-এর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কিছু
হাদিয়াও পেশ করেছিলেন। (হাদিয়াটি ছিল
নওরোয উপলক্ষ্যে। ফলে) আলী (রা.) বললেন,
“নওরোযুনা কুল্লা ইয়াওম” মুমিনের প্রতিটি দিনই
তো নববর্ষ। (আখবারু আবি হানিফা, সয়মারী)
অর্থাৎ মুমিন প্রতিদিনই তার আমলের হিসাব-
নিকাশ করবে এবং নব উদ্যমে আখেরাতের পাথেয়
সংগ্রহ করবে।
গত বছর যদি ধর্মীয় কাজ ইবাদত বন্দেগীতে কাটাতে পারি তাহলে আরেকটি নতুন বর্ষ পাওয়ার কারণে যে নব বর্ষ দান করলো তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা ,আর যদি তা ভাল কাজে ব্যয় না করতে পারি কষ্ট ও ব্যথা অনুভব হওয়া উচিৎ।যেমন কবি বলেন يسر الناس ما ذهب الليالي ولكن ذهابهن له ذهاب
কালের আবর্তে মানুষ খুশি হয়,কিন্তু সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় মানুষেরও চলে যাওয়ার সময় হয়ে যায়
তাই নববর্ষ উপলক্ষ্যে পরস্পরে
উপহার বা প্রেজেন্টশন আদান-প্রদান এবং
শুভেচ্ছা বিনিময় নাজায়িয। নতুন বছর নতুন কল্যাণ
বয়ে আনে, দূরীভূত হয় পুরোনো কষ্ট ও ব্যর্থতার
গ্লানি এধরনের কোন তত্ত্ব ইসলামে আদৌ
সমর্থিত নয়, বরং নতুন বছরের সাথে কল্যাণের
শুভাগমনের ধারণা আদিযুগের প্রকৃতি-পূজারী
মানুষের কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণার
অবশিষ্টাংশ। এ ধরনের কুসংস্কারের কোন স্থান
ইসলামে নেই। বরং মুসলিমের জীবনে প্রতিটি
মুহূর্তই পরম মূল্যবান হীরকখ-, হয় সে এই মুহূর্তকে
আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে আখিরাতের পাথেয়
সঞ্চয় করবে, নতুবা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত
হয়ে শাস্তি যোগ্য হয়ে উঠবে। তাই একজন
মুসলমানের কাছে বছরের প্রথম দিনের কোন
বিশেষ কোন গুরুত্ব ও তাৎপর্য নেই। এর সাথে
জীবনে কল্যাণ-অকল্যাণের গতিপ্রবাহের কোন
দূরতম সম্পর্কও নেই। আর সেক্ষেত্রে বাংলা
নববর্ষের কি-ই বা তাৎপর্য থাকতে পারে
ইসলামে?
কেউ যদি এ ধারণা পোষণ করে যে, নববর্ষের
প্রারম্ভের সাথে কল্যাণের কোন সম্পর্ক রয়েছে,
তবে সে শিরকে লিপ্ত হল, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে
অংশীদার স্থির করল। যদি সে মনে করে যে,
আল্লাহ এই উপলক্ষ দ্বারা মানবজীবনে কল্যাণ
বর্ষণ করেন, তবে সে ছোট শিরকে লিপ্ত হল। আর
শিরক এমন অপরাধ যে, শিরক এমন অপরাধ যে,তা সব সময় আমলকে নষ্ট করতে থাকে।
সূর্যকে স্বাগত জানানো ও বৈশাখকে সম্বোধন
করে স্বাগত জানানো: নববর্ষ উদযাপনের আর এক
কর্মসূচি থাকে বছরের প্রথম প্রহরে প্রথম সূর্যকে
স্বাগত জানানো ও রবি ঠাকুর রচিত বৈশাখ গান
গাওয়া। এ ধরনের কর্মকা- মূলত সূর্য-পূজারী ও
প্রকৃতি-পূজারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনুকরণ
মাত্র। যা আধুনিক মানুষের দৃষ্টিতে পুনরায়
শোভনীয় হয়ে উঠেছে। সূর্য ও প্রকৃতির পূজা বহু
প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন জাতির লোকেরা
করে এসেছে।